স্কুলের গোপাল চন্দ আর ইউসুফ আলী বন্ধু, নন্দিনী রায় আর ফাতেমা বেগম বান্ধবী । তারা একসাথে চলছে আবহমান কাল ধরে। তারা ধর্ম অবমাননা কি জানে না, জানে শুধু গোপাল-নন্দিনী হিন্দু আর ইউসুফ-ফাতেমা মুসলিম। তাও কদাচিৎ তাদের মধ্যে ধর্মের ভিন্নতার ভাবনাটি আসে ।
একসময় তাদের পড়ালেখা শেষ হয়, তাদের বিয়ে হয়, চাকুরী করে বয়স বাড়ে। তবুও তাদের মধ্যে ধর্মীয় পরিচয়ের চেয়ে বন্ধু বা সহপাঠীর পরিচয়ই মুখ্য হয়। দেখা হলে কত গল্প আর রসিকতা চলে ।
কখনো জিজ্ঞেস করে না, তোর ধর্মের খবর কি ? স্কুলে যে ধর্ম অবমাননার ঝামেলা হয়েছিলো মনে আছে ? এভাবেই সহাবস্থানে নির্লিপ্ত সময় পার করছিলো নন্দিনী-ফাতেমারা। তাদের শিক্ষক আব্দুর রহমান আর প্রীতিলতা ব্যানার্জি পড়ানোর সময়, শাসনকালে , কথা বলার সময় কখনো ভাবেন নি, এই বুঝি ধর্ম অবমাননা করে ফেললাম।
কিন্তু, বর্তমান প্রজন্মের কোমলমতি শিক্ষার্থীদের মনে ধর্ম-জাত বিভাজন-অবমাননা টার্ম যে ঢুকছে । শিক্ষকদের মনে যে ভীতির সঞ্চার হচ্ছে । তা সমাজ ও শিক্ষা ব্যবস্থার জন্য একটি সর্বঘাতী ভাইরাসের মতো। একটি মহল নিজেদের কট্টরপন্থার চাষ করতে এটিকে উস্কে দিচ্ছে। এটি ভবিষ্যতের জন্যে যে কি খারাপ বার্তা নিয়ে আসছে তা চিন্তাও করতে পারবেন না।
আসুন কোমলমতি শিক্ষার্থী ও শিক্ষা ব্যবস্থাকে অন্ততপক্ষে এই অবমাননা জুজু থেকে দূরে রাখি। নতুবা, ভবিষ্যৎ অন্ধকারে যাত্রা শুরু করবে……
মিলিয়ে নিয়েন.
লেখক: কে বি প্রদীপ দাশ













