কেউ যখন আমার চেম্বারে ঢুকে আমাকে ঊনার নিজের ধর্মীয় নিয়মে সম্ভাষণ জানান আমি সম্মানিত বোধ করি।

হিন্দু হলে “নমস্কার” বলেন।

মুসলিম হলে ৯৫ ভাগ রোগী বলেন, “আসসালামুআলাইকুম”।বাকিরা আদাব।
নিজের ছোট বাচ্চাটিকেও বলেন,ডাক্তার আন্টিকে সালাম করো!আমি অনুভব করি সৃষ্টিকর্তার প্রতি ঊনাদের এই আবেদন ” আপনার উপর শান্তি বর্ষিত হোক” কিংবা “আপনার মধ্যে বিদ্যমান পরমেশ্বর কে আমি সম্মান জানাই” এই ছোট ছোট শব্দ আমার মধ্যে স্বস্তিবোধ জাগায়।

আমি নিজেকে একজন সংস্কার হীন ধর্মপালন কারী হিসেবে ভাবতে পছন্দ করি।অন্যেরা যখন নিজ নিজ নিয়ম অনুযায়ী সম্ভাষন করেন আমি গর্বিত বোধ করি।অনুভব করি ওয়াজে,ফেসবুকে ঘৃণা ছড়ানো লোকেরা এখনো আপামর জনসাধারণ কে বিষিয়ে দিতে পারে নি।এখনো, মুসলিম জনগোষ্ঠীর একটা বিশাল অংশ,ওয়াজের ভাষা অনুযায়ী “আমি ভিন্নধর্মী,কাফের” হওয়া সত্ত্বেও ও আমার উপর শান্তি বর্ষিত করার চিরন্তন প্রার্থনা চালিয়ে যাচ্ছেন সর্বশক্তিমান এর দরবারে।

নিজেকে বিভিন্ন ক্ষেত্রে বঞ্চিত মনে হলেও,ডাক্তার হিসেবে এই অসামান্য প্রাপ্তি মানবতার প্রতি বিশ্বাস জাগায়।

নিউজিল্যান্ডে মসজিদে হামলার পর ওই দেশের প্রধানমন্ত্রী ও জনসাধারণের অভূতপূর্ব জাগরণ দেখে এদেশেও অনেকেই ভাবছেন,বাংলাদেশে এই ঘটনা হলে চিত্র কেমন হতো?

হয়ত,পৃথিবীতে শান্তির সূচকে দ্বিতীয় স্থানে থাকা নিউজিল্যান্ডের মতো আমরা সভ্য নই।কিন্তু নাসিরনগরে হামলার পর যেভাবে মানুষ এগিয়ে এসেছিল ত্রাণ পাঠাতে সেরকম ই হয়ত এগিয়ে আসবে সবাই।এদেশের মানুষের একমাত্র সমস্যা এরা প্রতিবাদ কম করে,সয়ে যায় ধরণীর মতো।তাই আপাতদৃষ্টিতে মনে হতে পারে,এরা হয়ত ঘৃণাজীবিদের কাতারে।এরা হয়ত আমাকে মরতে দেখে সবাই মিলে হাসবে। আমারো একটা সময়ে মনে হতো এরকম ই।কিন্তু যেদিন থেকে দেখছি কাফেরদের কে “আসসালামুআলাইকুম” বলতে নিষেধ করার ওয়াজ শুনেও ৯৫ ভাগ রোগী আমার উপর শান্তি বর্ষিত হবার জন্য প্রার্থনা করছে….পালটে যাচ্ছে ধারণা।এখন মনে হয়,হয়ত এরা প্রতিবাদ করেনা,মোহগ্রস্থের মতো মাথা ঝাঁকায়।কিন্তু সর্বশক্তিমান এর সৃষ্টির প্রতি বিশ্বাস হারায়নি এই অশিক্ষিত জনগোষ্ঠী।

সময়মতো এরাই হয়ত জ্বলে উঠবে….ভিন্নধর্মী হবার কারণে যদি মৃত্যু ও হয় কখনো,মানবতার প্রতি বিশ্বাস যেন না হারাতে হয়।

নমস্কার,
ওয়ালাইকুম আসসালাম
সেইসব হতদরিদ্রের জন্য…
একাত্তরের মতো প্রয়োজন হলে হরিপদ কে বাঁচাতে জব্বার আবারো এগিয়ে আসবে,এটাই আমার বিশ্বাস।এগিয়ে আসবেই।

ফেসবুকের বাইরের দুনিয়াই আসলে কলুষমুক্ত।অক্সিজেন এখানেই খেলা করে 💗💖💗

Writer: Dr Deepika Chakraborty

(Published as part of social media campaign #BeHumaneFirst #StandUnitedAgainstHatred to promote secularism in Bangladesh)