ক্রাইস্ট চার্চের ঘটনার পর ফেসবুকের পাতা সয়লাব হয়ে যাচ্ছে সে দেশের প্রধানমন্ত্রীর জেসিন্ডা আরডন এর প্রশংসায় । আসলে প্রশংসা তিনি পেতে পারেন । তিনি যা বলতে চাচ্ছেন তা সুস্পষ্ট । কোন ভণিতা নেই ।

গতকাল রাত জেগে টিভি লাইভ দেখেছি তাঁর বক্তৃতা শুনেছি । বলতে পারেন ” বে দ্বীনের “ দেশে তাঁদের টিভিতে আযান শুনছি । ইমামের খুৎবা শুনেছি । তিনি বলছেন , ইসলাম ফোবিয়া এখন রিয়েল ! এনিয়ে গত কয়দিনে টিভি গুলোতে ডিভেট চলছে । এই ফেনমিনা নিয়ে ব্যাপক কথা বার্তা হচ্ছে । মিডিয়ার তৈরি এই ভীতি পাশ্চাত্য সমাজে কি নিদারুণ প্রভাব ফেলেছে সেটা আলোক পাত হচ্ছে ।

যে কথা বলতে চাচ্ছিলাম সেটা হচ্ছে ফেসবুকে নিউজিল্যান্ড এর মহিলারা হিজাব পরে সংহতি প্রকাশ করেছে সেটা আমাদের চোখে ভালো লাগছে । লাগারই কথা । প্রশ্ন হচ্ছে , সে বা তাহারা যে সিম্প্যাথি মন থেকে দিচ্ছে আমি বা আমরা আপনারা সে সিম্প্যাথি কতটুকু দিয়েছি অতীতে বা এখন । উত্তরটা খুব একটা সুখকর নয় ।

রামুতে যখন হাজার বছরের ” বৌদ্ধ মন্দির “ ভাঙ্গা হলো তখন কাউকে সিম্প্যাথি দেখাতে দেখিনি । এঁরা এখানে সংখ্যা লঘু । থানার ওসি , উপজেলা চেয়ারম্যান দের দেখেছি ভাঙ্গার মিছিলে । শিয়া মসজিদে এই গতবছরও হামলা হয়েছে । মানুষ মরেছে , সিম্প্যাথি মিলেনি । হিন্দুদের রথযাত্রা আঁধার নামার আগে শেষ করতে বলেছেন স্বয়ং পুলিশ কমিশনার । রাতে আযানের সময় শঙ্খ না বাঁজাতে বলেছেন কমিশনার সাহেব গত দুর্গা পূজার সময় । ব্রাহ্ম সমাজের পুরোহিত বা বিশ্বাসী কে গলাকাটা হয়েছে গতবছর । কোন সিম্প্যাথি মিলেনি । আপনার প্রধানমন্ত্রী দুর্গা পূজার মণ্ডপে গিয়েছিলেন বলে আপনি ট্রল করেছেন । সত্যি বলছি অন্যের সিম্প্যাথি নেওয়ার যোগ্যতা অর্জন করতে হলে অন্যের ব্যাথায় আপনাকেও সমব্যাথি হতে হবে ।

এখন আসি আসল কথায় পাশ্চাত্যে সমাজে  সত্যি বলছি সংখ্যা লঘু মুসলমানরা অনেকটা শীতল নিরীহ প্রক্বতির । কারও সাথে পাছে নেই । কাজ আর ঘুম । বাড়ি নারী গাড়ী নিয়ে তাঁদের জীবন । পারলে মসজিদ করবে । বছর শেষে উমরায় যাবে । বছর বছর বাচ্চা উৎপাদন করবে । গে লেসবিয়ান মেরিড ব্যালিড জেনেও , সুদ হারাম জেনেও , মদ হারাম জেনেও রাণী মা’র দেশে , রাজাদের দেশে বেনিফিট নিতে তাঁর আপত্তি নাই । লাল আর নীল পাসপোর্ট সে ধরে রাখবে , যতই তাঁর মায়া থাকুক আরব দেশ গুলোর প্রতি । সে এখানে এখন সেটেল্ড । এখান ছেঁড়ে সে যাবে না ।

যে কথা বলতে চাচ্ছিলাম সেটা হচ্ছে সিম্প্যাথি আর মানুষ হওয়া নিয়ে । যে দেশে আপনি এখন থাকেন সে দেশে ক্রিসমাস গ্রিটিং আপনি দেন না । তাঁদের দেশে আপনি আযান শুনে আপনি পুলকিত দেখে আপনি আনন্দিত দেখে আমি খুশী । শামীমার কথাও আপনি মনে রাখবেন । প্যারিসে , ম্যানচেস্টারের ওপেন কনসার্টে যে মানুষ মরল সেটাও মনে রাখুন । সিম্প্যাথি দিতে শিখুন । হোয়াইট সুপ্রিমেসি র সাথে আপনার মুসলিম সুপ্রিমেসি আস্তে আস্তে ত্যাগ করুন । মানুষকে ভালো বাসুন ।

#BeHumaneFirst

Writer: Bangladeshi Expat,UK

(Published as part of Social Media Campaign #StandUnitedAgainstHatred to promote Secularism in Bangladesh)