দেশি লোকজন ধর্ম নিয়ে কথা বা বিতর্ক এড়িয়ে চলেন। বিশেষ করে শিক্ষিত লোকজন, লেখক কিংবা জনপ্রিয় লোকজন। কারণ, ধর্মের বিতর্কটি তাদের প্রচারিত অর্জনকে খেয়ে ফেলে, শত্রু বাড়িয়ে দেয়, অজনপ্রিয় করে তোলে। বিশেষ করে লেখকরা এসব একেবারেই এড়িয়ে চলেন ।

যাদের এসবের বালাই নেই, তারা আবার বিপরীত। ধর্মের বিতর্কটি তাদের একমাত্র ইস্যু। সব বিষয়ের মধ্যে ধর্মকে নিয়ে আনেন। নিজে মানেন আর না মানেন, অন্যকে ধর্ম মানতেই হবে, এমন একটি কথার আবহ তৈরি করেন ।

এমন করে দু মেরুর মানুষ নিয়ে আমাদের সমাজ। প্রথম শিক্ষিত অংশ, যারা ধর্মের বিতর্ক এড়িয়ে চলেন, তারা মাত্র দশ ভাগ। সমাজের বাকি নব্বই ভাগ দ্বিতীয় দলে, যারা ধর্মের কিছু কিছু মানে, কিছু অন্যকে গিলতে পরিবেশ তৈরি করে, ধর্মের ইস্যু তাদের ইস্যু, তারা ধর্মের অনুশাসন অল্প করে পালন করলেও বিশ্বাসের ব্যাপারে শক্ত।

আমি ভাবলাম, আমি কোন অংশের। আমি হিন্দু, নাকি মুসলিম। আমার নামের প্রথম অংশ অপূর্ব সচরাচর সামাজিক হিন্দু নামের শব্দ। চৌধুরী হিন্দু মুসলিম, দু পক্ষই ব্যবহার করেন। ভেবে দেখলাম এবং আমার পূর্ববর্তী লেখা এবং কাজগুলো মনে করে দেখলাম যে – আমি কোনো পক্ষের নই। আমার কোনো পক্ষ নেই।

আমি ধর্ম মানি না, স্রষ্টা বিশ্বাস করি না, তবে আমি ধর্ম নিয়ে সমালোচনা করি, নিজের ক্ষতি মেনেও আমি ধর্মের বিতর্কে কথা বলি – কারণ, আমি যেহেতু লেখক, নিয়ম অনুযায়ী আমার উচিত ধর্মের বিতর্কে না জড়ানো। কিন্তু আমি জড়িয়ে যাই।

তবে আমি ধর্ম নিয়ে বিতর্ক করতে একেবারেই পছন্দ করি না, কেউ জোর করে করতে চাইলেও আমি এড়িয়ে চলি। আমার অভিমতটি কেবল আলোচনা করি। অনেকে আমার নাম দেখে কনফিউজড হয়ে যান। কেউ ভাবেন, আমি হিন্দু, কেউ ভাবেন আমি মডার্ন মুসলিম। কেউ ভাবে ঢাকার, কেউ ভাবে কলকাতার। কেউ আমাকে ভাইয়া ডাকে, কেউ আমায় দাদা ডাকে।

আমি কোনটাই নই। আমি হিন্দু নই, আমি মুসলিমও নই। আমি মানুষ। আমি নিছক মানুষ। মানুষকে ঘিরে পৃথিবী নিয়ে আমার চিন্তা ভাবনা। আমি আকাশের ওপারে স্বর্গ-নরক নিয়ে চিন্তিত নই।

হিন্দু হোক, মুসলিম হোক, অন্য যে কোনো ধর্মের পালনকারী হোক, অন্যের ধর্ম পালনের বিরোধিতা করি না আমি। আমি যেমন অধর্মের স্বাধীনতায় বিশ্বাসী, তেমনি অন্যের ধর্ম পালনের স্বাধীনতায়ও বিশ্বাসী। কারণ, দু পক্ষই মানুষ। আমি মানুষের পক্ষে। আমি কোন ধর্মের পক্ষে নই।

লেখক

ডাঃ অপূর্ব চৌধুরী