আমার বিয়ের আর্টিটেক্ট বা ঘটক,আমার শশুরের বাল্য বন্ধু এডভোকেট আলাউদ্দিন কাকা কানাডায় আমার বাসায় বেড়াতে এসেছিলেন। তিনি পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়েন। আমি জায়নামাজ যোগার করে আমার বেড রুমে তার নামাজের ব্যবস্থা করে দিয়েছিলাম। আমার ছোট ছেলেটার তখন চার বছর বয়স। একদিন দেখলাম সেও তার দাদুর পাশে বসে দাদুকে অনুসরণ করে নামাজ পড়ছে। কাকা সেজদা দেন আমার ছেলেটাও দেয়। শিশু মনের এই সরলিপনা আমি খুব উপভোগ করে সেটার একটি ছবি তুলে রেখেছিলাম। ছোটবেলায় যার কোলে পিঠে মানুষ হয়েছি আমার সেই প্রতিবেশী দিদি জায়দা খাতুন ছিলেন আমার নিজের নানীর চাইতেও আপন। তিনিও নামাজ পড়তেন পাঁচ বেলা। পাশাপাশি আমার মা’কে দেখেছি আমাদের বাড়ির শিব মন্দিরে উলুধ্বনি দিয়ে পূঁজা দিতে। সন্ধ্যা বেলায় তুলসী তলায় কীর্তন করতে সেখানে শঙ্খধ্বনি হতো, লাঠি দিয়ে কাঁসর বাঁজাতাম আমি টং টং টং। কিন্তু মসজিদের আযানের সঙ্গে শঙ্খ ও কাঁসার শব্দ মিলে একটা অন্যরকমের অনুভব তৈরি হতো। কেউ কাউকে বলতে আসেনি দেখো বাপু এটা মুসলমানের পাকিস্তান, এখানে উলুধবনি চলবে না, শাঁখ বাজানো চলবে না। সেটা ছিল দ্বিজাতিতত্বের ভিত্তিতে তৈরি সাম্প্রদায়িক পাকিস্তান আমলে।

স্বাধীনতার পঞ্চাশ বছরের মধ্যেই আমরা শুনছি ঢাকা সহ বড় কোন শহরে পূঁজায় উলুধবনি দিলে বাড়ির মালিক হিন্দু ভাড়াটিয়াদের শাসিয়ে যান নব্বইভাগ মুসলমানের দেশে মুসলমানের বাড়িতে ভাড়া থেকে উলুধবনি দিয়ে পূঁজা করলে ঘাড় ধরে বের করে দেয়া হবে। ভয়ে তারা অনেক আগেই সিঁদুর বিসর্জন দিয়েছেন , এখন পূজা করেন মনে মনে শব্দ বিহীন ভাবে। বাংলাদেশের হিন্দুদের কি পাকিস্তানের চাইতেও দূর্দান্ত খারাপ অবস্থার মধ্য দিয়ে যেতে হচ্ছে না? তারা কি স্বাধীনতা যুদ্ধে অস্ত্র হাতে যুদ্ধ করে নাই? এ কোন সাম্প্রদায়িক বাংলাদেশে আছি আমরা?

লেখক:

সুব্রত নন্দী

প্রবাসী বাংলাদেশী